মাটির নিচে পুঁতে রাখা ২৯ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরি, ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার

গেজেট প্রতিবেদন

মেহেরপুরের গাংনীতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা প্রায় ২৯ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে গাংনী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গাংনী উপজেলার মুন্দা মাঝের গ্রামের বাসিন্দা মোছা. নার্গিস বানু (৪৬) বাড়িতে নির্মাণকাজ চলায় ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার নিরাপদে রাখার জন্য একটি প্লাস্টিকের কৌটায় রেখে পলিথিনে মুড়িয়ে তার একতলা ভবনের পূর্ব পাশের দরজার সিঁড়ির পাশে মাটির নিচে পুঁতে রাখেন। তার একমাত্র ছেলে মো. শাহীন কুয়েতপ্রবাসী। ছেলে বিদেশে থাকায় বাড়িতে একতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল এবং গত ৩০ জুন থেকে পাঁচজন টাইলস মিস্ত্রি সেখানে কাজ করছিলেন।

মাটির নিচে প্রায় ১১ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণালংকার রাখা ছিল। যার আনুমানিক মূল্য ২৯ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা।

এতে আরও জানানো হয়, গত ৫ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টাইলস মিস্ত্রিরা কাজ শেষে চলে যাওয়ার পর নার্গিস বানু দেখতে পান, যেখানে স্বর্ণালংকার পুঁতে রাখা হয়েছিল, সেখানে মাটি খোঁড়া। পরে খোঁজাখুঁজি করেও তিনি স্বর্ণালংকার পাননি। ঘটনার বিষয়টি কুয়েতপ্রবাসী ছেলে শাহীনকে জানালে তিনি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটের দিকে টাইলসের কাজ করার সময় এক মিস্ত্রি মাটি খুঁড়ে স্বর্ণালংকার পেয়ে তা আরেক মিস্ত্রির হাতে দেন। পরে তারা পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে স্বর্ণালংকারগুলো চুরি করে বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যান।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের টাইলস মিস্ত্রি মোমিন খান (৩৬) ও আলালকে (২২) শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় নার্গিস বানুর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ জুলাই গাংনী থানায় পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার পর গাংনী থানা পুলিশ ও বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে আলালকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে পলাতক মোমিন খানের শ্বশুরবাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কলেজপাড়া এলাকা থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অলংকারের মধ্যে রয়েছে দুটি নেকলেস, তিন জোড়া কানের দুল, একটি ব্রেসলেট, তিনটি চেইন, একটি লকেট, সাতটি বালা ও একটি বেঙ্গল বালা।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারসহ আদালতে পাঠানো হবে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন